শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

অনেককে দিয়ে গেলেন রঙিন স্মৃতি

ফরাসি প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করে গেলেন এটি সবারই জানা। কূটনৈতিক অঙ্গনে এই সফরের গুরুত্ব তো রয়েছেই; এর বাইরেও ঘটে গেছে কিছু স্মরণীয় ঘটনা। যেগুলো মনে রাখতে হবে বছরের পর বছর। কিছু মানুষ তো আজীবনেও ভুলবেন না ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সফরটি। সফরের প্রথম দিনেই গানের দল ‘জলের গান’র সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পী রাহুল আনন্দের ধানমন্ডির বাসার স্টুডিওতে যান মাখোঁ। সেখানে বসে তিনি গান শুনেছেন, দেশের

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। সেই সঙ্গে উপহার দিয়েছেন, নিজেও পেয়েছেন। গতকাল সোমবার গিয়েছিলেন ঢাকার গাবতলীর পাশে তুরাগ নদে। সেখানে নৌকা ভ্রমণ করেছেন। মাঝিমাল্লাদের নৌকাবাইচ উপভোগ করেছেন। জেলেদের জাল ফেলে মাছ ধরা দেখেছেন। স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চা বিক্রেতার সেলফির আবদার পর্যন্ত মিটিয়েছেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে গাবতলীর কাছে আমিনবাজারের বড়বাজারে তুরাগপারে যান মাখোঁ। তখন বৃষ্টি পড়ছিল। মিষ্টির দোকানের মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আমার দোকানে আসবেন, আমি এটা ভাবতেও পারিনি। তিনি আমার দোকান ঘুরে দেখেছেন। আমি তাকে শিঙাড়া, জিলাপি ও চমচম দিলাম খাওয়ার জন্য। তিনি একটি শিঙাড়া সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন। বললেন তিনি সেটা খাবেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানির পানশী নামের নৌকায় তুরাগ নদী ঘুরে দেখেন। নৌকার মাঝি ছিলেন আব্দুল হালিম। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নৌকা চালানো আব্দুল হালিমের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা এটি।

জানতে চাইলে আব্দুল হালিম বলেন, ‘উনি প্রায় আধা ঘণ্টা নৌকায় ছিলেন। আমার জীবনে এমন একটা দিন যাবে, চিন্তাও করিনি। সাধারণ মানুষ আমরা। ভাগ্যে ছিল বলে এত বড় একটা মানুষকে দেখতে পেরেছি।’

মিরপুর ইকোপার্কের চায়ের দোকানদার মো. রাকিব একটি সেলফি তুলেছেন মাখোঁর সঙ্গে। সেই সেলফি ইতিমধ্যে ফেসবুকে পোস্টও করেছেন। ২৪ বছরের রাকিবের কাছে এ ঘটনাটি এখনো স্বপ্নের মতো। রাকিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিনি আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেছে। তারপর বলেছে সেলফি, এরপর ফোন বের করে সেলফি তুললাম। সে আমার ঘাড়ে প্রায় এক মিনিট মতো হাত দিয়ে রেখেছিল। তার মতো মানুষ আমার সঙ্গে সেলফি তুলেছে, হাত মিলিয়েছে। এটা অনেক কিছু।’

মিরপুর বড়বাজার ইকোপার্কের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘এটি এক অবাক কা-। আমরা সবাই হতবাক হয়েছি। এই অনুভূতি অন্যরকম। ইতিহাস হয়ে থাকল।’

সাভার আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হারুন-উর-রশিদ বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট মহোদয়ের তুরাগ নদে আগমন উপলক্ষে আমরা তিন-চার দিন ধরে নদীপথে ঘুরে ঘুরে এবং আমিনবাজার, কাউন্দিয়া, বিরুলিয়া এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলাম।’

সফরের প্রথম দিনে রবিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে রাহুল আনন্দের বাসায় যান মাখোঁ। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা অতিবাহিত করেন। রাহুল আনন্দের জন্য ঘটনাটি অবিস্মরণীয়। তিনি বলেন, ‘ফরাসি প্রেসিডেন্ট যে আমার বাড়িতে কিংবা স্টুডিওতে আসতে চাইবেন, এটি ধারণাও করতে পারিনি।’

ফরাসি প্রেসিডেন্টকে একতারা উপহার দিয়েছেন রাহুল। অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে একতারা বাজাতে হয়, সেটি শিখিয়ে দিয়েছেন, সঙ্গে গান করেছেন। শুনিয়েছেন বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাস। প্রেসিডেন্ট মাখোঁ যে কলমে লেখেন, সে রকম একটি কলম রাহুলকে উপহার দিয়েছেন। তার দেওয়া কলমে রাহুল লিখবেন, এমন প্রতিশ্রুতিও আদায় করে নিয়েছেন।

রাহুল বলেন, ‘বাউলরা কীভাবে একতারা বাজিয়ে গান করেন, সেটা দেখিয়েছি। আমি একটু লালন সাঁইজির গান শোনালাম। প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের কয়েকটা লাইন গেয়ে শোনালাম। তিনি একতারা কীভাবে বাজায় শিখতে চাইলেন। আমি শেখালাম। তিনি যেহেতু সংগীতশিল্পী, খুব অল্প সময়ের মধ্যে পুরোটা শিখে গেলেন।’

বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন : বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে পরিদর্শন বইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘আমি শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, যিনি তার জাতির স্বাধীনতা, ভাষা, সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।’

পরিদর্শন বইয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘তার পরিবারের আরও যারা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং সেই সঙ্গে ফ্রান্সের জনগণের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করছি।’ এ সময় এশিয়ার সর্বকনিষ্ঠ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার বিভিন্ন চিত্র দেখেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এবং নিহত সবার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা এবং তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। তারা মাখোকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির অন্ধকার সময়ের কথা জানান। যেখানে জাতির জনককে তার পরিবারের ১৯ সদস্যসহ হত্যা করা হয়।

শেখ মুজিবের বর্ণাঢ্য জীবনের ইতিহাসও ফরাসি প্রেসিডেন্টকে জানান তারা। যেখানে প্রত্যন্ত গ্রামের বালক থেকে জাতির নেতা হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়। তিনিই পরে ভাষা, স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের অনাড়ম্বর জীবনযাপন ও হত্যাকান্ডের ভয়াল ছবি দেখে দর্শনার্থীদের চোখে-মুখে বিষন্নতা নেমে আসে।

বিকেলে ঢাকা ছাড়লেন মাখোঁ : এক অন্য ধরনের সফলতা আমেজ তৈরি করে দুই দিনের সফর শেষে ঢাকা ছেড়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। গতকাল বিকেল ৩টায় তাকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সাবের হোসেন চৌধুরী।

এর আগে গত রবিবার রাত ৮টায় ভারতে জি-২০ সম্মেলন শেষে দুই দিনের সফরে ঢাকায় অবতরণ করেন মাখোঁ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি স্যাটেলাইট ও উড়োজাহাজের বিষয়ে এয়ারবাসের সঙ্গে দুটি এবং স্থানীয় সরকার প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য একটি সম্মতিপত্র সই হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com